জগদ্দলে মোদির ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি তরজা, এলাকায় চাপা রাজনৈতিক উত্তেজনা

Kapilesh Paswan 🕒 17 Feb 2026, 11:12 AM | 👁️ 16 বার দেখা হয়েছে

উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল এলাকায় বিজেপির ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নৈহাটি রাজেন্দ্রপুর মোড় থেকে পানপুর মোড় পর্যন্ত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দু’ধারে বিজেপির পক্ষ থেকে একাধিক ব্যানার লাগানো হয়েছিল। ওই ব্যানারগুলিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র ছবি সহ একটি টোল ফ্রি নম্বর দেওয়া ছিল, যেখানে সাধারণ মানুষ ফোন করে বাংলার উন্নয়ন সংক্রান্ত নিজেদের মতামত বা সমস্যা জানাতে পারতেন।

বিজেপির অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে এই ব্যানার ও পোস্টারগুলি ছিঁড়ে পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের হাত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগকে নষ্ট করার জন্যই এই কাজ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী দেশের সকলের, তাই মানুষের কথা জানানোর জন্য দেওয়া একটি নম্বরের ব্যানার কেন ছিঁড়ে ফেলা হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতারা।

অন্যদিকে All India Trinamool Congress এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তৃণমূলের দাবি, তাদের কোনও কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। বরং তাদের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বা প্রচার শেষ হওয়ার পর ব্যানার খুলে নেওয়া সংশ্লিষ্ট দলেরই দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ব্যানার ঝুলে থাকলে তা স্বাভাবিকভাবেই নষ্ট হয়ে পড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি তৃণমূলের তরফে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে যে বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের অশান্তির খবর মেলেনি, তবুও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার ফলে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই সামনে আসছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে প্রচারকে কেন্দ্র করে সংঘাত ও অভিযোগের রাজনীতি আরও বাড়তে পারে। জগদ্দলের এই ঘটনাও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, প্রশাসনিক তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে কি না এবং পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়।