Humayun Kabir’s Explosive Warning on Beldanga Police Station | বেলডাঙ্গা থানা নিয়ে বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি হুমায়ন কবিরের

Decode Media Desk 🕒 11 Feb 2026, 06:48 AM | 👁️ 18 বার দেখা হয়েছে

মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে আবারও নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ন কবির। বেলডাঙ্গা থানার “ইট খুলে নেওয়ার” হুঁশিয়ারি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁর ও তাঁর পরিবারের উপর নজরদারি চালাচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর পরিবারের কারও গায়ে পুলিশ হাত দিলে “থানার ইট খুলে নেওয়া হবে”। 

ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে অশান্তি এবং পরবর্তীতে তাঁর ছেলের গ্রেফতারিকে ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে বচসার পর পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হলে হুমায়ন কবির প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি দাবি করেন, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পর থেকেই প্রশাসনের একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ির আশেপাশেও ঘোরাফেরা করছে, যা তিনি পরিবারের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছেন। 

এই পরিস্থিতিতে হুমায়ন কবির জানিয়েছেন, তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যথাযথ নিরাপত্তা পাচ্ছেন না এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না বলেই তাঁর অভিযোগ। তবে তাঁর এই মন্তব্য ও ভাষা ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এ ধরনের বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করতে পারে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময় ধরে হুমায়ন কবির একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। এর আগেও বেলডাঙ্গায় ‘বাবরি মসজিদ’ আদলে মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে দল থেকেও সাসপেন্ড করা হয়। এই ধারাবাহিক বিতর্কের জেরে মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদিও এখনো এই মন্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে সূত্রের খবর, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানা গেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে বা রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সময়ে এই ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়াতে পারে, ফলে প্রশাসনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে, বেলডাঙ্গা থানাকে ঘিরে হুমায়ন কবিরের এই ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে তাঁর বক্তব্যের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। আগামী দিনে এই ইস্যু আইনি বা রাজনৈতিক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।