মহারাষ্ট্র থেকে বাংলা—সংরক্ষণ ইস্যুতে দুই সরকারকে একসাথে কড়া আক্রমণে অধীর চৌধুরী

Kapilesh Paswan 🕒 19 Feb 2026, 10:19 AM | 👁️ 12 বার দেখা হয়েছে

Adhir Ranjan Chowdhury সম্প্রতি এক তীব্র রাজনৈতিক বক্তব্যে মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গ—দুই রাজ্যের সরকারকেই একসাথে নিশানা করলেন। তাঁর অভিযোগ, সংরক্ষণ ও সংখ্যালঘু অধিকারের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে দুই রাজ্যেই সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি।

অধীর চৌধুরী বলেন, Maharashtra সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারা “সবার জন্য” কাজ করছে না। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, Narendra Modi যে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতির কথা বলেন, বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। তাঁর দাবি, এই স্লোগান সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

শুধু মহারাষ্ট্র নয়, একইসঙ্গে তিনি West Bengal-এর শাসক দল All India Trinamool Congress-কেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের যে সংরক্ষণের সুযোগ পূর্বে ছিল, তা প্রশাসনিক গাফিলতি, উদাসীনতা কিংবা ইচ্ছাকৃত ভুলের কারণে হাতছাড়া হয়েছে। তিনি বলেন, “খোঁজ নিয়ে দেখুন, সংরক্ষণের যে অধিকার ছিল, তা আজ আর আগের মতো নেই।”

অধীরের বক্তব্য অনুযায়ী, সংরক্ষণ শুধু একটি প্রশাসনিক নীতি নয়, এটি সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন। তাঁর মতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষাগত ও আর্থিক উন্নয়নের জন্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি সেই অধিকার সঠিকভাবে কার্যকর না হয়, তাহলে বৃহত্তর সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে অধীর চৌধুরী এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করেছেন। একদিকে তিনি কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে সমালোচনা জোরদার করেছেন, অন্যদিকে রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন। তাঁর কথায়, “মহারাষ্ট্র, বাংলা—কেউ সোজা ব্যাটে খেলে, কেউ বাঁকা ব্যাটে খেলে। খেলছে সবাই।” অর্থাৎ রাজনৈতিক কৌশল আলাদা হলেও জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে—এমনটাই তাঁর ইঙ্গিত।

এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপি শিবির থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একইভাবে তৃণমূল কংগ্রেসও এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা আক্রমণ শানাতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে সংরক্ষণ ও সংখ্যালঘু অধিকার দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু। বিভিন্ন সময়ে আদালতের নির্দেশ, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রেও সংরক্ষণ প্রশ্নে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দাবি-দাওয়া ও আন্দোলন রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে।

সব মিলিয়ে অধীর চৌধুরীর এই বক্তব্য দুই রাজ্যেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে পারে। সংরক্ষণ ও সংখ্যালঘু অধিকার প্রশ্নে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।