Malda Traders Protest : মালদায় দোকান ভাঙা ঘিরে বিক্ষোভ, বনধের হুঁশিয়ারি

Decode Media Desk 🕒 11 Feb 2026, 11:38 AM | 👁️ 22 বার দেখা হয়েছে

মালদা শহরে দোকান ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার ভোররাতে, প্রায় রাত আড়াইটে নাগাদ জাতীয় সড়কের ধারে পরপর ন’টি দোকান, একটি দোতলা গুদামঘর এবং দুটি অফিসঘর বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, কোনও পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এই ভাঙচুর চালানো হয় এবং সেই সময় দোকানের ভেতরে থাকা সামগ্রী লুটপাটও হয়েছে। ঘটনায় প্রায় ১২টি ব্যবসায়ী পরিবার এক মুহূর্তে রোজগারহীন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ।

এই ঘটনাকে ঘিরে মালদা শহরে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পরিবারের সদস্যরাও। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রমোটার রাজীব শর্মার নির্দেশেই এই ভাঙচুর চালানো হয়েছে। যদিও প্রশাসনের তরফে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ইংরেজবাজার থানার পুলিশ দুটি জেসিবি আটক করার পাশাপাশি একজন চালককে গ্রেফতার করেছে, তবে মূল অভিযুক্ত এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

মালদা চেম্বার অফ কমার্সের তরফে এই ঘটনায় ইংরেজবাজার পৌরসভার ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক স্তরে যথাযথ নজরদারি থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না। ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভরত ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি, দুদিনের মধ্যে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা না হলে আগামী শনিবার জেলাজুড়ে ব্যবসায়ীরা বনধের ডাক দেবেন। তাঁদের দাবি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা। কিছু বিক্ষোভকারীর বক্তব্যে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষও প্রকাশ পেয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার পর এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধুমাত্র তদন্ত নয়, দ্রুত মূল অভিযুক্তের গ্রেফতার এবং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। মালদার এই ঘটনাকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাপ বাড়ছে, এবং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।