SIR হবেই, বাধা দেওয়া যাবে না', মমতার করা মামলায় স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

Decode Media Desk 🕒 09 Feb 2026, 10:57 AM | 👁️ 3 বার দেখা হয়েছে

নয়াদিল্লি: এসআইআর (SIR) মামলাকে ঘিরে গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে নজিরবিহীন এক ঘটনার সাক্ষী থাকে গোটা দেশ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও কর্মরত মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সর্বোচ্চ আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের করা মামলায় সওয়াল করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। 
সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এসআইআর প্রক্রিয়া চলবেই এবং তা বাধা দেওয়া যাবে না। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে সব রাজ্যকেই পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে এবং সুষ্ঠুভাবে কাজ চলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ আদালত দেবে। 
আদালতে কী ঘটল
সোমবারের শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য ৮ হাজার ৫৫৫ জন গ্রুপ–বি অফিসারের নাম পাঠানো হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তারা শুধু সংখ্যার তথ্য পেয়েছে, বিস্তারিত নামের তালিকা পায়নি। এ নিয়ে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন— কেন পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠানো হয়নি এবং আগেই তা করা যেত কি না। 
রাজ্যের তরফে জানানো হয়, কমিশনের উত্তরের অপেক্ষায় ছিল প্রশাসন। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, তথ্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে মুখ্যসচিবকে হলফনামা দিতে বলতে হতে পারে।
কমিশন বনাম রাজ্য — কী নিয়ে বিতর্ক
নির্বাচন কমিশনের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত সংখ্যক গ্রুপ–বি অফিসার দেওয়া হয়নি এবং কর্মীর অভাবেই বাইরে থেকে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে হয়েছে। কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্য, প্রায় ৩০০ জন গ্রুপ–বি অফিসার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু মাত্র ৮০ জন দেওয়া হয়েছিল। 
অন্যদিকে রাজ্যের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আদালতে জানান, রাজ্যে ২৯৪ জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) রয়েছেন, যাঁরা সবাই গ্রুপ–এ অফিসার এবং এসডিএম পদমর্যাদার। তাঁদের অধীনেই গ্রুপ–বি অফিসাররা কাজ করেন বলে রাজ্যের দাবি।
ঐতিহাসিক মুহূর্ত: মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব সওয়াল
গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের মামলায় সওয়াল করেন। আইনজীবী হিসেবেই আদালতে বক্তব্য রাখেন তিনি এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান। এর আগে কোনও কর্মরত মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে ব্যক্তিগতভাবে নিজের মামলায় সওয়াল করেননি বলে জানা যায়। 
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, রাজ্যের তরফে সরাসরি আইনি লড়াইয়ের কারণেই বিষয়টি নিয়ে পরিবর্তন এসেছে, নইলে নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিত।
এখন নজর কোথায়
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না, তবে তা স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া জরুরি। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং রাজ্য–কমিশনের অবস্থানই এখন এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।