আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে 'ভারত বন্ধ'। ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার (SKM) ডাকে এই ধর্মঘট ঘিরে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে অধিকার আদায়ের লড়াই, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের টানাপোড়েন—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর দাবি এবং তার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া কিছু বড় প্রশ্ন যা আমাদের ভাবাচ্ছে:
শ্রম কোড বাতিল: নতুন চারটি শ্রম কোড বাতিলের দাবিতে অনড় শ্রমিক সংগঠনগুলো। প্রশ্ন উঠছে, এই নতুন আইন কি সত্যিই শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করবে না কি কর্পোরেট স্বার্থরক্ষা করবে?
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি: প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদেশি কৃষি পণ্য ভারতের বাজারে ঢুকলে দেশীয় কৃষকরা কি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে?
মনরেগা ও পেনশন: ১০০ দিনের কাজ (MGNREGA) শক্তিশালী করা এবং পুরনো পেনশন স্কিম ফিরিয়ে আনার দাবি তোলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামোয় কি এই দাবিগুলো পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব?
এই ধর্মঘটে শামিল হয়েছে প্রায় ১৪টি জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং কৃষকদের যৌথ মঞ্চ। উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলি হলো:
ট্রেড ইউনিয়ন: INTUC, AITUC, HMS, CITU, AIUTUC, TUCC, SEWA, AICCTU, LPF এবং UTUC।
ব্যাঙ্কিং ইউনিয়ন: AIBEA এবং BEFI-এর মতো সংগঠনগুলো সমর্থন জানানোয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা।
কৃষক সংগঠন: সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (SKM)।
গোটা দেশের প্রায় ৬০০টি জেলায় এই বন্ধের প্রভাব পড়ার কথা জানানো হয়েছে।
ওড়িশা ও অসম: সংবাদ সূত্র অনুযায়ী, এই দুই রাজ্যে বনধের প্রভাব সবথেকে জোরালো। প্রায় স্তব্ধ হওয়ার মুখে জনজীবন।
কেরল ও পশ্চিমবঙ্গ: কড়া ইউনিয়ন কালচারের কারণে এখানে সরকারি বাস ও কিছু জায়গায় ট্রেন চলাচলে সমস্যার খবর মিলছে।
অন্যান্য রাজ্য: পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে মূলত কৃষি বলয়ে 'চাক্কা জ্যাম' বা রাস্তা অবরোধের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ধর্মঘটের জেরে সাধারণ মানুষ যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন:
পরিবহন সংকট: বহু জায়গায় বেসরকারি বাস ও অটো চলছে না। ফলে অফিসগামী মানুষ ও স্টেশনে আসা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ব্যাঙ্কিং পরিষেবা: এটিএম এবং অনলাইন লেনদেন স্বাভাবিক থাকলেও, ব্রাঞ্চে গিয়ে চেকবই জমা দেওয়া বা ড্রাফট করার মতো কাজ আটকে যেতে পারে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: কোনো সরকারি ছুটি ঘোষণা না হলেও, যাতায়াতের সমস্যার কথা মাথায় রেখে কেরল বা ওড়িশার মতো রাজ্যে স্কুল-কলেজ পরোক্ষভাবে বন্ধ।
জরুরি তথ্য: হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধের দোকান এবং দুধের মতো অতি প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলোকে এই বন্ধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। মেট্রো ও বিমান পরিষেবাও এখনও পর্যন্ত শিডিউল অনুযায়ী চলছে।
খবরের শেষে আমরা পাঠকদের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখছি:
১. গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের দাবি জানানোর জন্য 'বন্ধ' কি আজও সেরা মাধ্যম, না কি ডিজিটাল যুগে বিকল্প কোনো পথের কথা ভাবা উচিত?
২. দাবিগুলোর যৌক্তিকতা কতখানি আর তার জেরে হওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতির দায় কার?