একের পর এক ইস্তফা, চাপে ঘাসফুল শিবির?

Rupan Baidya 🕒 28 May 2026, 11:35 AM | 👁️ 16 বার দেখা হয়েছে

একের পর এক তৃণমূল নেতার ইস্তফা, গ্রেফতারি, দুর্নীতির অভিযোগ—রাজ্যের রাজনীতিতে কি তবে শুরু হয়েছে অস্বস্তির নতুন অধ্যায়?
সাংসদ কাকলি দস্তিদার, কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী, বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ডা: শান্তনু সেন। প্রশ্ন উঠছে, এ কি শুধুই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি “ধোঁয়া উঠলে আগুন কোথাও না কোথাও থাকেই” — সেই পুরনো প্রবাদই আবার সত্যি হতে চলেছে?

বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই রাজ্যের একের পর এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব খাটানো, নিয়োগ কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে এসেছে। কেউ জেলে, কেউ চুপ, কেউ দল থেকে দূরে। এখন প্রশ্ন—দলের অন্দরেই কি শুরু হয়েছে চাপা ভয়?
“ডুবন্ত নৌকা ছেড়ে মাঝিরাও আগে পালায়”— রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রবাদই ঘুরছে মুখে মুখে।

ডা: শান্তনু সেন দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্যতম মুখ ছিলেন। টিভির পর্দায় দলের হয়ে আগ্রাসী সওয়াল করেছেন বহুবার। তাহলে হঠাৎ এই ইস্তফা কেন?
দলের ভেতরে কি মতবিরোধ? নাকি আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝেই নিরাপদ দূরত্ব তৈরি করছেন নেতারা?
আরও বড় প্রশ্ন, এইসব ইস্তফা কি শুধুই কাকতালীয়, নাকি “ঝড় আসার আগে গাছের পাতাই আগে কাঁপে”?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, তৃণমূলের ভেতরে এখন দ্বন্দ্ব ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। পুরনো বনাম নতুন, ক্ষমতার কেন্দ্র বদল, তদন্তের চাপ—সব মিলিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে  তৃণমূলের দলের অন্দরে। আবার বিজেপির কটাক্ষ, “যেখানে আগুন নেই, সেখানে এত ধোঁয়া ওঠে না।”
তবে কি বিজেপির সঙ্গে ভিতরে ভিতরে কোনও সমঝোতার রাজনীতি চলছে? নাকি তদন্তের ভয়ে অনেকেই আগেভাগে দূরত্ব রাখছেন?

অন্যদিকে তৃণমূল শিবির অবশ্য দাবি করছে,, ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক কারণেই এইসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে বড় করে দেখাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনেও এখন প্রশ্ন—যদি সব ঠিকই থাকে, তাহলে এত ইস্তফা কেন?

রাজনীতির ময়দানে একটা কথা খুব প্রচলিত—“সময়ই সব সত্যি সামনে আনে।”
এখন দেখার, এই ইস্তফার মিছিল শুধুই সাময়িক অস্থিরতা, নাকি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।