তালিকাটি এত তাড়াতাড়ি তৈরি করা হলো কেন—এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলে জোরালোভাবে উঠছে। ভাতা এসে গেছে, কিন্তু কে ভাতা পাবে এবং কীসের ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই তড়িঘড়ি করে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অনেকের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম বাদ পড়েছে, আবার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বিরোধীদের প্রশ্ন, নির্বাচনের আগে কি বিশেষ উদ্দেশ্যে ‘ক্যাডার ভাতা’ চালু করা হয়েছিল? অর্থাৎ, ভোটের আগে সংগঠনের কর্মীদের আর্থিকভাবে চাঙ্গা রাখতে কি এই ভাতা প্রকল্পের সূচনা? যদিও শাসকদলের তরফে দাবি করা হচ্ছে, সম্পূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমীক্ষার ভিত্তিতেই উপভোক্তাদের নির্বাচন করা হয়েছে এবং এটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প।
অন্যদিকে, বেকারত্ব ভাতা প্রসঙ্গেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অতীতে জ্যোতি বসু-র আমলে Communist Party of India (Marxist) সরকার বেকার যুবকদের জন্য ভাতা চালু করেছিল। সেই সময় বহু যুবক-যুবতী এর সুবিধা পান। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে—সে ভাতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী ছিল? সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু বেকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেকারত্ব ভাতার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ভাতা নয়, কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগ সৃষ্টি করাই হওয়া উচিত সরকারের মূল লক্ষ্য। নইলে সরকার পাল্টালেও বেকাররা বেকারই থেকে যাবেন—এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন বহু মানুষ।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি প্রশাসন ও পুলিশের উপর আগের মতো আস্থা রাখতে পারছেন না। রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং প্রতিদিন পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের সম্পর্কেও চাপ তৈরি হয়েছে।
বিরোধী শিবিরের দাবি, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা সামনে রেখে প্রশাসনের একাংশ নাকি নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে নিরপেক্ষ বা নিরাপদ অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁদের অভিযোগ, শুধু পদ বা দায়িত্ব বদল করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, কারণ মাঠপর্যায়ে সহযোগিতার অভাব দেখা যাচ্ছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে সরকারি ভাবে কোনও নিশ্চিত বক্তব্য সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, West Bengal Police সম্পূর্ণভাবে আইন মেনেই কাজ করছে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে পুলিশের কাজের কোনও সম্পর্ক নেই। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন রাজনৈতিক মন্তব্য বা পাল্টা মন্তব্য নতুন নয়; তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জনআস্থা অটুট রাখাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের তীব্র বাক্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ সম্প্রতি এক মন্তব্যে দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসে বড় নেতা হতে গেলে জেলে যাওয়ার ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জেলযাপন সম্মানের হলেও বর্তমান রাজনীতিতে সেই বিষয়কে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, দলের মধ্যে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাই বড় নেতা হয়ে উঠছেন—যদিও এই অভিযোগ শাসকদলের তরফে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।
দিলীপ ঘোষ আরও প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদৌ কি তাদের বিশ্বাস করেন, যারা অতীতে তাঁর সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন বা দলকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, গত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পর দলত্যাগ ও রাজনৈতিক অবস্থান বদলের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এখন পুরনো ও বিশ্বস্ত নেতাদের উপরই বেশি নির্ভর করছেন।