শিরোনাম: দেশে নাগরিক সচেতনতার ঘাটতি—দায় কার? ইতিবাচক দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছে একাধিক রাজ্য
দেশজুড়ে নাগরিক সচেতনতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাস্তা-ঘাটে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা, ট্রাফিক নিয়ম অমান্য, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা—এইসব ঘটনাই প্রতিদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্বল নাগরিক চেতনার ফলেই পরিবেশ দূষণ থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্যের সংকট পর্যন্ত একাধিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
রাজধানী থেকে জেলা শহর—অনেক জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে, ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও প্লাস্টিক ও আবর্জনা রাস্তায় ফেলে রাখা হচ্ছে। বর্ষাকালে নর্দমা বন্ধ হয়ে জল জমে যাচ্ছে, বাড়ছে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। অন্যদিকে, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা ও হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর প্রবণতা দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়াচ্ছে।
কেন এই নাগরিক সচেতনতার ঘাটতি?
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে—
সচেতনতার অভাব: ছোটবেলা থেকে নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে পর্যাপ্ত শিক্ষা না থাকা।
মানসিকতা: “এটা সরকারের কাজ”—এই ধারণা এখনও অনেকের মধ্যে প্রবল।
আইন প্রয়োগের দুর্বলতা: নিয়ম ভাঙলেও সব সময় কঠোর শাস্তি হয় না।
সামাজিক উদাসীনতা: অন্যায় দেখেও অনেকেই প্রতিবাদ করেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিক চেতনার অভাব কেবল পরিবেশ নয়, দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ইতিবাচক দৃষ্টান্ত
তবে এই চিত্রের মধ্যেই আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের একাধিক রাজ্য ও শহর।
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর টানা কয়েক বছর দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে। সুশৃঙ্খল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই এর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
কেরালা উচ্চ শিক্ষার হার ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সচেতনতার জন্য প্রশংসিত।
সিকিম প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করে পরিবেশ সংরক্ষণে নজির গড়েছে।
এছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষার একাধিক উদাহরণ মিলছে।
করণীয় কী?
প্রশাসনের মতে, কড়া আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি। স্কুল-কলেজ স্তর থেকে নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা, সামাজিক প্রচার এবং স্থানীয় স্তরে উদ্যোগ—এই তিনের সমন্বয়েই পরিবর্তন সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, উন্নত ভারত গড়তে হলে শুধু অবকাঠামো নয়, উন্নত মানসিকতারও প্রয়োজন। নাগরিক সচেতনতা বাড়লে তবেই স্বচ্ছ ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
বার্তা স্পষ্ট—দেশকে বদলাতে হলে আগে বদলাতে হবে নিজেদের। 🇮🇳